বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ টিপস

মোঃ নুর নবী, ফার্মাসিস্ট
  • প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০
  • ৩৫৭

শরীর ভালো না থাকলে মন ভালো থাকে না আর মন ভালো না থাকলে প্রকৃত সুখ-শান্তি পাওয়া যায় না, এ কথা কারো অজানা নয়। শরীরের সঙ্গে মনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আর শরীর সুস্থ রাখতে আপনাকে অবশ্যই কিছু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা উচিত।

আসুন জেনে নেই স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ টিপস:-

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় খাবারের ভিন্নতাঃ
প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয়। তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকম ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখুন। খাবারের পরিমান থেকে গুনগত মানের দিকে লক্ষ্য রাখুন। এই যেমন, প্রোটিন শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়। তাই মানসম্পন্নভাবে শক্তি সরবরাহ করে এমন খাবার গ্রহণ করুন যা কোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন আঁশযুক্ত খাবার এবং মৌসুমি ফল:
শিম, মটরশুটি, বরবটির মতো আঁশযুক্ত সবজি শরীরের সুগার নিয়ন্ত্রনে যেমন সাহায্য করে তেমনি হৃদরোগ প্রতিরোধেও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। বাধাঁকপি, ফুলকপি সবজি সমূহ ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যারা ফলমুল এবং শাক-সবজি বেশি বেশি খায় তাদের হাঁপানিসহ বিভিন্ন অ্যালার্জিজনিত রোগের ঝুঁকি কম থাকে।

খাদ্য তালিকায় রাখুন শর্করা:
মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজন শর্করা এবং গ্লুকোজ। আর এগুলো থাকে বিভিন্ন ফল, মিষ্টিআলু, শষ্যদানা প্রভৃতিতে। ভুট্টা-গম এসব শষ্যদানায় পেতে পারেন আয়রণ, থিয়েমিন, নিয়াসিন, ভিটামিন-বি এবং আরো অনেক উপকারী উপাদান যা আপনার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে পেশির শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া গমেররুটিতে থাকা ভিটামিন-ই, ফাইবার ও সেলেনিয়াম। যা শরীরের ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি করে যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে পেটের রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন অল্পপরিমাণে বাদাম:
এছাড়া খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন অল্পপরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম রাখুন। চিনাবাদাম, কাজুবাদাম ও পেস্তাবাদামসহ প্রভৃতিবাদামে প্রচুর পরিমানে আয়রন, পটাসিয়াম, ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিডসহ প্রচুর উপকারী উপাদান রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলেহার্ট ভালো থাকে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বেশি করে হাসুন:
সুস্থ থাকার সহজ উপায় হিসেবে বেশি করে হাসার প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান:
একজন পরিণত বয়সের মানুষের রাতে গড়ে দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম দরকার। কিন্তু একটানা যদি ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকে তবে শরীরের উপরে এর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই, দেহ ও মনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

ব্যয়াম করুন:
আপনার শরিরের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যয়াম করুন। যাদের মেদ বা ভুড়ি জমেছে তারা নিয়মিত ও সঠিক ব্যায়াম করতে পারেন। হাঁটা ও অন্যান্য ব্যয়াম এর পাশাপাশি সম্ভব হলে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যয়াম করুন।

বর্জন করুন;
অতিমাত্রায় চা, কফি এবং কোমল পানীয় ত্যাগ করুন। তার পরিবর্তে টাটকা ফলের রস খান। শরীরের নিয়মিত যত্ন নিন। শরীরের সৌন্দর্য বজায় রাখুন।

রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত:
রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। খাওয়ার কম পক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর শোওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুম থেকে ভোরে ভোরে উঠার অভ্যাস করুন। সকালের সুর্যের আলো গায়ে লাগান।

Share This Post

আরও পড়ুন