মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামীর মরদেহ অবশেষে ১১দিন পর কবর থেকে উত্তোলন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৬

লালমনিরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি জলিলের মরদেহ অবশেষে ১১দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার ১ আগষ্ট সকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের উপস্থিতিতে পৌরসভার সাপটানা কবরস্থান থেকে জলিলের লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামাল, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (সদর ফাড়ীর ইনচার্জ) মাহমুদুন্নবীসহ মামলার বাদীর পরিবারের লোকজন। এর আগে মৃত জলিলের ৩ দিনের কুলখানি অনুষ্ঠান শেষে জলিলের বড়ভাই আব্দুর রশিদ ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মমিনা বেগমকে তাদের সাথে গ্রামের বাড়িতে যেতে বলে। কিন্তু মমিনা বেগম তাদের সাথে শ্বশুর বাড়ি যেতে অস্বীকার করেন। প্রয়োজনে এখানেই আবার বিয়ে করবেন বলে মমিনা বেগম সাফ জানিয়ে দেন। ছোট ভাই মৃত জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগমের নিকট এ কথা শোনার পর মৃত জলিলের বড়ভাই রশিদের সন্দেহ হয়। এ কারনেই পরেরদিন ২৫ জুলাই তার ছোটভাই জলিলকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের টনক নড়ে। ওইদিনই পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামালের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন এঙ্গেলে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক ভাবে দীর্ঘক্ষণ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কোন ক্লু পাচ্ছিলো না পুলিশ। পরে তাদের ফোন কল যাচাই করে ২৭ জুলাই মঙ্গলবার সকালে তাদের ৪জনকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরকীয়ার কারনেই জলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী। হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় পরে বাকী ২ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে স্ত্রী মমিনা বেগম ও পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে ১৬৪ দারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে প্রেরন করা হয়। তাদের জবান বন্দি রেকর্ড করার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহানের উপস্থিতিতে পৌরসভার সাপটানা কবরস্থান থেকে জলিলের লাশ উত্তোলন করা হয়।পরে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, কুরবানী ঈদের দ্বিতীয় দিনে একসাথেই ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানী ও মৃত আব্দুল জলিল। ওইদিন গভীর রাতে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে জলিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এদিকে অপেক্ষারত স্ত্রী মমিনা বেগম স্বামী ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে তাকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ভোরের দিকে মমিনা বেগম চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে জলিলের নাকে ও মুখে রক্ত বের হতে দেখেন এবং পরকীয়া প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী মৃত্যু নিশ্চিত করে তরিঘরি করে লাশ দাফন করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফরিদ আল সোহান জানান, আদালতের নির্দেশে ১১ দিন পর মৃত জলিলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে জলিলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

Share This Post

আরও পড়ুন