সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক

খবর বিজ্ঞপ্তি
  • প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৬

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের শিকারের গুলিতে পেশাগত দায়ীত্ব পালনরত অবস্হায় সাংবাদিক মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের বেডে মারা যাওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজসহ জাতী লজ্জিত মর্মাহত খুব্দ সাংবাদিকসমাজ তারই বহিঃপ্রকাশ মুজাক্কির হত্যার বিচারের দাবিতে আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারী সারাদেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন গুলো। জাতীলজ্জিত একজন সাংবাদিক!
একজন মানুষ ক্ষমতাসীন দলের দুইপক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হলো। কোনো প্রতিবাদ হলোনা,কোনো সংগঠন এগিয়ে এলোনা, সন্ত্রাসী হায়েনাদের কেউ গ্রেফতারের দাবী জানালোনা।ক্ষমতাসীন বলে কেউ প্রশ্ন করলোনা যে তাদের কর্মীদের হাতে কেনো মারণাস্ত্র? সেই মানুষটা দুটো দিন আইসিউতে থেকে মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটফট করলো। রক্তে তার জামা;হাসপাতালে সাদা বিছানা ভিজে লাল হলো, এতো এতো সাংবাদিক সংগঠনের কেউ দেখতে গেলোনা!সাংবাদিক ইউনিয়নের কোনো নেতা কোনো নিন্দা প্রতিবাদ জানালোনা!বড় বড় মিডিয়া টেলিভিশন পত্রিকায় আহতের কোনো ছবি ছাপা হলোনা। কোনো সংবাদেও তার বিবরণ এলোনা!
একমাত্র একটি সংগঠন বিএমএসএফ ছুটোছুটি করলো। মানুষটার শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে হয়তো কপালে একটুখানি হাতে পরশ ছোঁয়ালো। মানুষটার রক্ত লাগবে। রক্ত চাই রক্ত চাই বলে সারাটাদিন ছুটোছুটি করলো। তবুও শেষ রক্ষা হলোনা!
মানুষটা না ফেরার দেশে চলে গেলো।
আফসোস! কী হতভাগ্যইনা ছিলো মানুষটা!
হতভাগ্য একজন সাংবাদিক ছিলো!
হায় সোনার বাংলা!হায় স্বাধীন বাংলা!
একজন চোর ডাকাত ধর্ষক কিংবা হিংস্র হায়েনাও যদি আজ রাস্তায় মরে পড়ে থাকতো?
শত মিডিয়া শত সংবাদকর্মী ছুটে যেতো সেখানে।
তাজা খবর হতো।
অথচ একজন সংবাদকর্মীর তাজা প্রাণ আজ একুশের খানিক মুহুর্ত আগেই চলে গেলো?
দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো চুপচাপ!
আমি আজ সারাদিন ঘুরেফিরে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ালাম। যুগান্তর?প্রথম আলো?সময় টিভি?এনটিভি?কোথাও নেই।
এদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে কি গণমাধ্যম কর্মীদের কোনো অবদানই ছিলোনা?
এইযে রাত বারোটা পেরোতেই বাংলা হিন্দি ইংরেজি গানে গানে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি মহান মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে;মাইকে মাইকে ভেসে আসছে শহীদ দিবসের গান;সেই ভাষা আন্দোলনেও কি কোনো সাংবাদিকের কোনো অবদান ছিলোনা?
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে কি কোথাও সাংবাদিকেরা ছিলোনা?
বড় প্রশ্ন জাগে মনে। বড় প্রশ্ন জাগে-
এতো নিগ্রহ!এতো বেওয়ারিশ মৃত্যু তো বোধহয় কোনো টোকাইয়েরও হয়না। হয় কি?
আমার ভাই মারা গেলো। অথচ কেউ প্রশ্ন করলোনা ‘কেনো?’
আমার ভাইয়ের তাজারক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলো।
কেউ একটা প্রশ্ন করলোনা।
অথচ এই মৃত্যু কোনো ক্ষমতার লোভের জন্য ছিলোনা।
ছিলোনা কোনো স্বার্থের জন্যও।
সে তোমাদেরই জন্য তোমাদেরই নিরাপত্তার জন্য ছুটে গিয়েছিল। তোমরা যে রাষ্ট্রটিকে গড়তে চাও সে রাষ্ট্রের কোথাও যেনো একটি প্রাণও অন্যায়ভাবে না ঝরে যায় সে খবর রাখতে গিয়েছিলো। তোমরা যারা দেশের এ প্রান্তে ও প্রান্তে কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে একে অন্যের খবর জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকো তাদেরকে এ প্রান্তের খবর জানাতে গিয়েই আজ আমার ভাই লাশ হয়ে ঘরে ফিরলো।
অথচ তোমরা একটুখানি আফসোসও করলেনা।
তোমাদের কথা আর কি বলবো?
কোনো একটা গণমাধ্যম ;কোনো একটা সংগঠন ;কোনো একজন সাংবাদিক নেতা একটিবার প্রশ্ন তুললোনা।কী আফসোস! কী অসহায়ত্ব!
হায় রাষ্ট্র! হায় সাংবাদিক!
আমি লজ্জিত আজ।
আমি সাংবাদিক!
তাই বুঝি আমার জীবনের সামান্যতম মুল্য নেই তোমার কাছে?
আমি সাংবাদিক তাই বলে আমি কি তোমাদের কেউ নই?
নাকি একটি মাত্র সংগঠন(বিএমএসএফ) ছাড়া এদেশে সাংবাদিকদের আর কোনো সত্যিকারের সংগঠন ;সত্যিকারের আশ্রয়স্থল নেই?
একদিন হয়তো তোমার কিংবা আমার কিংবা অন্য কোনো ভাইয়ের কফিন বহন করে নিয়ে যেতে হবে।
মনে রেখো সেদিনও কোনো শোক মিছিল হবেনা।
একদিন তুমি আমি আমরা সবাই মুজাক্কির হবো নিশ্চুপে নীরবতায়।

বিঃদ্রঃ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুতে আগামী ২৩ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএমএসএফ।
সফল করুন।
যে দেশের সাংবাদিকরা ব্যক্তি স্বার্থে বলিয়ান সে দেশে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কতটা কার্যকর ?

তবে সকল সাংবাদিক মহোদয়গন মনে রাখবেন,

* ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যক্তিগত সমন্বয় না করে সমষ্টিগত স্বার্থের চিন্তা করাই উত্তম নয় কি ?

* আজ সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির চলে গেছে কালকের সিরিয়ালে হয়তো আমাকে না হয় আপনাকে এভাবে সাংবাদিক সাগর-রুনি, সাংবাদিক মিরুল, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মত চলে যেতে হতে পারে।

* আমরা যেমন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য অপরের সাথে সমন্ময় করছি ঠিক তেমনি অন্যের স্বার্থে আঘাত লাগলে সে আপনার সাথে সমন্বয় করবে কি ?

* একটু ভেবে দেখবেন কি ? আপনার ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অন্যের সাথে আপনি একক ভাবে যে সমন্বয় করেছেন সেই সমন্বয়ের কারনে আপনার একই পেশার অন্য আরেক ভাইকে চিরবিদায় নিতে হলো নাতো।

* দেশে সকল অধিকাংশ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে দাবি তুলে অন্নশন, মানববন্ধনের মাধ্যমে দাবি আদায় করে কিন্তু সাংবাদিক তথা একাধিক সাংবাদিক সংগঠন হওয়ায় একক নেতৃত্ব হচ্ছেনা আর ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবী তুলছেনা।

* আমরা সবাই সাংবাদিক নেতা তাই আজ দেশে একাধিক সাংবাদিক সংগঠন এটাই আমাদের বড় দূর্বলতা নয় কি ?

সাংবাদিক সাগর-রুনি, সাংবাদিক মিরুল, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিররা ইতিহাসের পাতায় তো দুরের কথা কারো স্মৃতির পাতায় থাকবে কিনা সন্দেহ। এ উক্তি তুলে ধরেন, ইমাম হোসেন বিমান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের প্রচার সম্পাদক ঝালকাঠি শাখা তিনি আরোও বলেন, আমার এই লেখা কোন ব্যক্তি বা সংগঠনকে উদ্দেশ্য করে নয়। এ লেখা দ্বারা কারো কোন ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করি না । যদিওবা কারো কোন প্রকার ক্ষতি হয় সে ক্ষেত্রে লেখাটা সংশোধনীয়।

সাংবাদিক নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে পেশার মর্যাদা, দাবি ও অধিকার রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করি: সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজা

Share This Post

আরও পড়ুন