রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

সংবিধান_ও_দেশের_বিদ্যমান_আইনে সিআরবি তে হাসপাতাল করা যাবেনাঃ

আলীউর রহমান সিনিয়র সাংবাদিক
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
  • ৩২

বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় ভাগের ২৪ ধারা অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী সিআরবি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত।

“মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০” এর বিধান অনুযায়ী খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না৷ ব্যাখ্যা- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন উদ্যানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয় এইরূপে উহার বৃক্ষরাজি নিধনকে উদ্যানটির শ্রেণি পরিবর্তনরূপে গণ্য করা হইবে৷

পাশাপাশি “জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮” এর ৩.১৭ ধারায় আবাসন, গৃহায়ন ও নগরায়ন ( Accomodation, Housing and Urbanization)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে- সারা দেশে খেলার মাঠ, পার্ক, বাগান, নার্সারি, উন্মুক্তস্থান ও ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাসমূহ সংরক্ষণে গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

২০১২ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিআরবিকে সাজিয়ে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। রেলওয়ে সদর দপ্তর এবং এখানকার রেলওয়ে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখেই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল। সিআরবির পুরো এলাকাকে প্রকল্পের আওতায় না এনে লোক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত সাত রাস্তার মোড়কে ঘিরে ২৫ একর জমির ওপর প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনার মধ্যে ছিল সিআরবির অভ্যন্তরে ছোট খালটিকে বাড়িয়ে কৃত্রিম লেক তৈরি, ফোয়ারা, কৃত্রিম ঝরনা, পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি নির্মাণ, এক পাহাড়ের সঙ্গে অপর পাহাড়ের সংযোগ তৈরির জন্য ফুট ওভারব্রিজ, লেকের ওপর কাঠের পাটাতনে বসার জায়গা, হাঁটাচলার জন্য দুই কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তার পাশে তাঁবুর আদলে বসার জায়গা সৃষ্টি করা। এছাড়া পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা খাদে অ্যাম্ম্ফিথিয়েটার নির্মাণ করে সেখানে একসঙ্গে চার হাজার মানুষ বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুবিধা তৈরির কথা ছিল। ওয়াকওয়ে, রুফওয়ে, লেক, ঝরনা, ফুড কর্নারসহ আরও কিছু নাগরিক সুবিধা রাখারও পরিকল্পনা ছিল।

দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই বন্দরনগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবির প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ঐতিহ্য ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

Share This Post

আরও পড়ুন