বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙ্গন- আতংকিত রামগতির সুজন গ্রামের মানুষঃ

মনজুর হোসেন আলেকজান্ডার প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ৮৯১

লক্ষীপুর রামগতি থানার আলেকজান্ডার উপজেলার বালুর চর সুজন গ্রাম। মেঘনার তীব্র ভাঙনের মূখে আতংকিত ও অসহায় হয়ে পড়েছে এগ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

মেঘনা নদীর ভাঙনের আতংকে কাটছে তাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত। ইতিমধ্যে বাংলাবাজার ,সরকারী চরগেছ পাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, বেড়ীর মাথা স্লুইসগেট বাজার এলাকার স্থানীয়দের বসত ভিটা সহ অনেক প্রতিষ্ঠান মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।

এ বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আকবর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন “মেঘনা নদীর ভাঙনের করালগ্রাসে বিলীন হয়ে যায় ৫নং ওয়ার্ড। তীব্র ভাঙনে বিলীনের অপেক্ষায় আছে ৪নং ওয়ার্ড় সহ উত্তর বালুর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালুর চর উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন (বোর্ড অফিস) সহ জনতা বাজার (বালুর চরের সবচেয়ে বড় বাজার)। আমরা স্থানীয়রা বার বার এই ভাঙনের কবলে পড়ে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছি।” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি এই ভাঙ্গন রোধ করার ব্যাবস্থা নেয়ার বিনীত আবেদন জানান।

এ ব্যাপারে চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা হলে, তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা এই তীব্র ভাঙ্গনের ব্যাপারে আমাদের এমপি মহোদয়কে অবহিত করেছি। উনি বেশ কয়েকবার নদীভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাছাড়া, এমপি সাহেব সংসদে মেঘনার তীব্র নদীভাঙ্গন রোধ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। আমরা চাই সরকার দ্রুত এই মেঘনার ভাঙন রোধের যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করুক”।

স্থানীয় তরুন সমাজ এই ভাঙন রোধ করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করে যাচ্ছেন।স্থানীয় “আলেকজান্ডার ইউনিয়ন রক্ষা মঞ্চ” নামের একটি সংগঠনের সদস্য মনজুর হোসেনের সাথে কথা জানা যায়, মেঘনার ভাঙনে একে একে বহু বসতবাড়ী, বাজার, মসজিদ, স্কুল বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন,”আমরা প্রতিটা সময় আতংকিত থাকি। কখন, কে মেঘনার শিকারে পরিনত হয়। আমরা চাই সরকার অতিদ্রুত এই ভাঙন রোধ করতে ব্যাবস্থা গ্রহন করুক”।

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফাউন্ডেশান (বিএনএএফ) এর বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় অধিবাসী ইঞ্জিনিয়ার জুয়েলের কাছে প্রশ্ন ছিল, “আপনি এলাকার বাসিন্দা। আপনারা কি ভাবছেন? ”। তিনি জবাবে বলেন,”এ সরকার মানবিক। সরকারের নজরে এলে সরকার অবশ্যই এ বাঁধ নির্মানে দ্রুত ব্যাবস্থা নিবে।”

মেঘনার ভাঙন রোধ করতে কী করছেন? এমন জিজ্ঞাসার জবাবে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন জানান, “আমি গতকালও এই ভাঙনের বিষয়টি বৈঠকে উত্থাপন করেছি।ডিসি মহোদয়কে আমি এই ভাঙনের ব্যাপারে বিশেষ ভাবে অবহিত করেছি। তাছাড়া এমপি মহোদয় এই ভাঙন রোধ করতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি নিজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীকে দ্রুত সাময়িক ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেছি। ইনশাআল্লাহ দ্রুত মেঘনার ভাঙনরোধ করতে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।”
সাধারণ জনগনের সাথে কথা বলে দেখাগেছে, তারা এখনো আস্থা রাখতে চান প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি আর সরকারের উপর।

Share This Post

আরও পড়ুন