বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

বিদ্যালয় রক্ষার ৫০লাখ টাকা পানিতে ভেসে যাওয়ার পথে

মোঃনূরনবী,বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০
  • ৪১২

“সরকারি মাল,দরিয়া মে ঢাল”এই প্রবাদটিই সত্য হতে চলেছে বরিশাল, মেহেন্দিগঞ্জের, শ্রীপুর ইউনিয়নের চরবগী গ্রামের চরবগী চৌধুরিপাড়া ইসলামিয়া কে জামান সরকারী প্রাইমারি স্কুুল-কাম সাইক্লোন শেল্টার ভাঙ্গন রক্ষা করার ক্ষেত্রে।

অত্র বিদ্যালয়টি ১৯৭৫ ইং সালে প্রতিষ্ঠিা লাভ করে। ২০১৪-১৫ ইং সালে বিদ্যালয়টি ৩ তলা বিশিষ্ট প্রাইমারি স্কুুল-কাম সাইক্লোন শেল্টার হিসাবে নতুন ভবন নির্মান করা হয়।

উক্ত ভবনটি বর্তমানে তেতুলিয়া ও কালাবদর নদীর সংযোগ স্থলে চরবগী এলাকায় নদী ভাঙ্গনের কবলে পতিত হওয়ার উপক্রম।যে কোন সময় ভবনটি নদীগর্বে বিলিন হয়ে যেতে পারে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্কুল ভবনটি প্রায় ফুট ২০ ফুট দুরে আছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের উদ্দ্যোগে জরুরী ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় এই ভাঙ্গন রোধ করতে। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যেমতে কাজ চলমান। বালুর বস্তা ফেলা অব্যাহত রয়েছে।এ পর্যন্ত যত বস্তা ফেলা হয়েছে হাতে গোনা কয়েক টি ছাড়া বাকি বস্তা গুলো নদী গর্বে হারিয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন রোধ করার ৫০ লাখ টাকা পানিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম। কাজের কাজ কিছুই হবে কিনা প্রশ্ন থেকেই যায় ।
প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি, সেলিম মৃধার সাথে তিনি বলেন “অব্যহত নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে স্কুলকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা চলতেছে।এখন রক্ষা করার মালিক এক আল্লাহ। স্কুুল রক্ষার ক্ষেত্রে তার করনীয় কি ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই ভাঙ্গন রোধ করার জন্য আমরা বিগতদিনে স্থানীয় এমপি মহোদয় সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অতিবাহিত করেছি।বর্তমানে এই ভাঙ্গন রোধ করার কাজ চলছে শুনেছ।কে করছে না করছেএসব কাজের ধারে কাছে আমি যাই না।

তিনি আরো বলেন,ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে শ্রিপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদ কে জিজ্ঞেস করলে বিস্তারিত জানা যাবে”এরকম রকম দায়সারা উত্তর দিলেন স্কুল কমিটির সভাপতি। তিনি এর বেশি কিছু বলতে অস্বিকৃতি জানান।

এব্যাপারে কথা হয় উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে কুলসুমের সাথে তিনি জানান,” ভাই আমি ব্যস্ত আছি কারন আমার স্কুুল নদী ভাঙ্গনে নিয়ে যাচ্ছে।যে কোন সময় স্কুল নদীগর্বে হারিয়ে যাবে তাই স্কুলের মালমাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি। আমি নদী ভাঙ্গন রোধ করার বরাদ্দ আসার আগেই শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে স্কুল রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে অবহিত করি। স্কুুল নদীতে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি স্কুলের আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে লোকজন সহ ব্যস্ত সময় পার করছি। আপনাদের এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত স্কুল ভবনটি নদীর হাত থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ”

কথা হয় এলাকার সচেতন মহলের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন। চোখের সামনে বালুবর্তী বস্তাগুলো ফেললো কয়েকদিন পর্যন্ত। কোনো হদিস নাই ভাংগন রক্ষাকারি বস্তা গুলোর। এলাকা বাসির ধারনা এইভাবে বস্তা ফেলে খরস্রোত নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে স্কুুলটি রক্ষা করা অসম্ভব। আরো শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরি প্রয়োজন।

Share This Post

আরও পড়ুন