মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসছেন মেজর হাফিজ ও মোঃ শাহজাহান

বিশেষ সংবাদ - মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার |
  • প্রকাশ : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৭০

 

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে এখনো চারটি পদ শূন্য। দলের একঝাঁক নেতা ওই পদের জন্য প্রত্যাশী। অনেকেই ভিতরে ভিতরে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লন্ডনে ও নানাভাবে যোগাযোগ করছেন কেউ কেউ। যে কোনো সময় বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে তারেক রহমান ওই শূন্য চার পদ পূরণ করতে পারবেন বলে জানা গেছে ।
দলের নির্ভরযোগ্য এক সূত্রে জানান, খুব শিঘ্রই অন্তত দুজন নেতাকে বর্তমানে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে যে দুজন চুড়ান্ত ফাইনাল নিশ্চিত করা হয়েছে তারা হচ্ছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবঃ হাফিজ ও মোঃ শাহজাহান। এই দুইজনকে মুল্যায়ন করা হচ্ছে দুই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে। এ ক্ষেত্রে দুর্দিনে যারা বিএনপি বিশেষ করে জিরা পরিবারের পাশে ছিলেন এবং নানা প্রতিকুল পরিবেশে ও দল ছাড়বেন না এমন পরীক্ষিত নেতাই যাবেন এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা ত্যাগী নেতাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বেশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।
অন্য দিকে কিছু বিষয় তারুণ্য কিংবা জ্যেষ্টতা বিবেচনা করা হবে না বলে জানা গেছে।

অপরদিকে জানা যায় জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আরও যারা সর্বোচ্চ ভাবে এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

শিগগিরই শূন্য চার পদের মধ্যে দুজনকেই চুড়ান্ত ফাইনাল নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন সে ক্ষেত্রে বরিশাল এলাকা থেকে একজন ও নোয়াখালী এলাকা থেকে একজন। এ প্রসঙ্গে আজ সকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বা,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাইলে জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ গুলো যে কোনো মুহুর্তে পূরণ করতে পারবেন । দলের আরও বেশ কিছু শূন্যপদ রয়েছে। সেগুলোও পূরণ করতে পারবেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি শোনেছি জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য চার পদ এর মধ্যে দুজনকে চুড়ান্ত ফাইনাল নিশ্চিত করা হয়েছে। এবিষয়ে নাম প্রকাশ করতে অনিহা বোধ করেন।

জানা যায়, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির মোট সদস্য ১৯। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ ও পদত্যাগের পর এখন স্থায়ী কমিটিতে রয়েছেন সদস্য ১৫ জন। মারা গেছেন বয়োজ্যেষ্ঠ সিনিয়র নেতা তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, ও এম কে আনোয়ার । আর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ( অবঃ) মাহবুবুর রহমান । বর্তমানে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন – বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ও সালাহউদ্দীন আহমেদ। এতে নতুন করে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন কিছুদিন আগে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১ নম্বর সদস্য বেগম খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য জামিনে মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ায় তাঁর এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । অপরদিকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ২ নম্বর সদস্য তারেক রহমান প্রায় এক যুগ ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। অবশ্য তিনি স্কাইপ বা জুমে দলের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এতে নিয়মিত স্কাইপে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যুক্ত হন। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় উক্ত বৈঠক গুলো। এদিকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১০ নম্বর সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ । এছাড়াও জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য সালাহউদ্দীন আহমেদ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে রয়েছেন। ২০১৫ সালের বিএনপির অনিদিষ্টকালের অবরোধ – হরতাল কর্মসূচি চলাকালে তিনি নিখোঁজ হন। এতে বেশ কয়েকমাস পর শিলংয়ে তার হদিস মিললে ও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে গ্রেফতার করে শিলং থানা পুলিশ। পরে মামলায় জিতলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি শিলংয়েই বর্তমানে থাকতে হচ্ছে তাকে।

শুধু জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নয়, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এর পাঁচটি পদ ও ফাঁকা রয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, একজন পদত্যাগ করেছেন। এসব শূন্যপদে প্রত্যাশিত হিসেবে দৌড়ঝাঁপ করছেন বিএনপির মধ্যসারির অনেক নেতা। এছাড়াও মৃত্যুবরণ সহ নানা কারণে আরও বেশ কয়েকটি উপদেষ্টা পদও শূন্য। অন্যদিকে নির্বাহী কমিটিতে ও ফাঁকা রয়েছে বেশ কিছু পদ। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে মৃত্যু, পদত্যাগ, ও বহিষ্কারের কারণে সর্বমোট ৪০ টি পদ শূন্য রয়েছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা,হবে বলে জানা গেছে।

Share This Post

আরও পড়ুন