মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:২৩ অপরাহ্ন

ধর্ষন মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
  • ২৪৭

ধর্ষন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রদলের সভাপতি নিয়াজ মাহমুদ নিলয়। তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শরীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও টাকা আত্বসাৎ এর অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী এক নারী পল্টন মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ছাত্রদলের এ নেতাকে গ্রেপ্তার করেন।

পল্টন মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, নিয়াজ মাহমুদ নিলয় এর সাথে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এসময় নিয়াজ মাহমুদ নিলয় তার পরিচয় গোপন করে এবং বিভিন্ন ভুল তথ্য দিয়ে ভুক্তভোগীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিলয় একাধিকবার পল্টনে তার বন্ধুর বাসায় এনে ভুক্তভোগীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে তার কাছ থেকে আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন নিলয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাই বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নারী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, নিয়াজ মাহমুদ নিলয়ের সাথে প্রায় দুই বছর আগে যখন আমার সম্পর্কটা হয় তখন আমি জানতে পারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গাফফার এর আন্ডারে নিলয় রাজনীতি করেন। পরে আমার গাফফার ভাইয়ের সাথে পরিচয় হযলে আমি গাফফার ভাইয়ের সাথে বিষয়টা শেয়ার করি। তখন উনি আমাকে আশ্বস্ত করেন চিন্তা করো না কমিটি শেষে দেখা যাবে। এরপর থেকে আমাদের সম্পর্ক টুকটাক ঝগড়া অভিমান হতো সেটা আমি গাফফার ভাইয়ের কাছে বলতাম। যখন তাকে আমি টাকা পয়সা দিতাম গাফফার ভাইকে জিজ্ঞেস করতাম। গাফফার ভাই আমাকে নিয়ে হাসতো আর বলতো ঠিক আছে তোমরা চালিয়ে যাও, তোমরা সুখী হও। গত রোজার ২০ তারিখে যখন নিলয় ঢাকা আলিয়ায় ত্রান বিতরনের কথা বলে আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয় তখন আমি গাফফার ভাইকে জিজ্ঞেস করি। উনি হাসে আর বলে প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করো তোমাকে একটি ছবি দেওয়ার জন্য। এরপর আমি নিলয়কে যখন বলি তুমি এত টাকার ত্রান বিতরণ করলা একটি ছবি তো ফেসবুকে আসলো না কারণ কি? ও আমাকে বলেন ছবি উঠাইতে আমি বারণ করেছি ঠিক এমন করে আমাদের সম্পর্কের সাথে গাফফার ভাই জড়িত ছিল। এখন তার কাছে বিচার চেয়েও বিচার পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, মামলার পর আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মেডিকেল সার্টিফিকেট সহ আরো কিছু তদন্তের বিষয় আছে যেগুলো হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

Share This Post

আরও পড়ুন