মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সন্ত্রাসী হামলায় আওয়ামী লীগের কর্মী গুলিবিদ্ধ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১
  • ৬৪

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলায় সোহেল রানা ওরফে লেনিন (৪০) নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।বুধবার (৫ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা বাজারে সায়েক আলী ওরফে করিমের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ব্যক্তি একই ইউনিয়নের
চাপাইগাছি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কুদ্দুসের ছেলে এবং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহমেদ খানের আত্মীয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দোকান মালিক সায়েক আলী ওরফে করিম ও আবু বক্কার বাকু একাত্তর ট্রিবিউনকে জানান, রাত পৌনে ১০ টার দিকে লেনিন দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ৩/৪ টি মোটরসাইকেলে ৭/৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে অতর্কিত লেনিনের উপর হামলা চালায়।এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে তার বৃদ্ধাঙ্গুলী কেটে যায়। লেনিন একজনকে পিছন থেকে চেপে ধরলে ওরা গুলি করে পালিয়ে যায়। অজ্ঞাতনামাদের ছোঁড়া গুলি লেনিনের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে লাগে। এতে লেনিন গুরুতর অসুস্থ হলে স্বজনরা উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তারা আরো জানান হামলাকারীদের কাউকে চেনা যায়নি। তারা স্থানীয় নয় হয়তো ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রাতে হোগলা বাজারের সায়েক আলীর দোকানে সোহেলসহ কয়েকজন বসে ছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাত চারজন দোকানের সামনে থামে। পরে তারা সেখানে পানি চায়। সোহেল তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপ মারে। বাঁ হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে যায়। এরপর সোহেলকে একজন পেছন থেকে চেপে ধরলে আরেকজন গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলি সোহেলের দুই হাঁটুর নিচে লাগে। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে আহত সোহেল রানার লেনিন একাত্তর ট্রিবিউনকে বলেন, করিম দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে হান্নান, মেহেদী, ফিরোজ, আতিয়ার সহ আরো চার থেকে পাঁচ জন দোকানের সামনে আসে। এ সময় কিছু বোঝার আগেই আমার হাতে কোপ মারে। এ সময় আমি ওদের ধাক্কা দিয়ে পালাতে গেলে হান্নানের নেতৃত্বে প্রথমে মেহেদী এবং পরে মিজান গুলি করে।

জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহমেদ খান একাত্তর ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিপক্ষরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এসেছিল। আমাকে না পেয়ে আমার নিকটতম আত্মীয় ও আওয়ামী লীগ কর্মী সোহেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং পরে দুই পায়ে গুলি করে গুরুতর আহত করে।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুখ আজম হান্নান বলেন, বুধবার চর জগন্নাথপুরে ইফতার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কুমারখালী শহরের নিজ বাড়িতে চলে আসি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা কয়েকদিন পূর্বে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য সভাপতির নির্দেশে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি এখনো পর্যন্ত অসুস্থ।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিব হাসান বলেন, সোহেল নামের একজন হাতে কোপ ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্তা (ওসি) একাত্তর ট্রিবিউনকে জানান, এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এজাহার নেওয়া হয়েছে।কারা জড়িত মামলার স্বার্থে
এ মূহুতে কিছু বলা সম্ভব না।তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সভাপতি ফারুক আহমেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনায় মামলাও হয়েছে।

Share This Post

আরও পড়ুন