মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ১০:০৬ অপরাহ্ন

করোনা ভাইরাস(Corona virus) নিজে সাবধান হোন

প্রতিভাবান লেখিকা শায়লা সুমনা
  • প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
  • ২৫৫

গবেষনামুলক হেলথটিপসঃ (Corona virus) করোনা ভাইরাস কি আপনি আপনার বাসায় পালছেন ? উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করে দিচ্ছেন আপনার রুমে ও শরীরে। আসুন সুমনার জানা – অজানায় জানার চেষ্টা করি।

আমরা সবাই প্রায় এটি খুব পরিস্কার করে জানি যে, করোনা ভাইরাস ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ও পরিবেশে অনেক সময় টিকে থাকতে পারে ও বংশবৃদ্ধি করে। গরম ও আদ্রতা আবহাওয়ায় ও পরিবেশে এটি বেশীক্ষন টিকে থাকতে বা বংশবৃদ্ধি করতে অতটা সক্ষম হয়না যেমনটা শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় টিকে থাকতে সক্ষম।

ধরুন, আপনি অনেক বিলাসি ও সৌখিন প্রকৃতির মানুষ। আপনি গরম ও আদ্রতাপুর্ন আবহাওয়া মোটেও সহ্য করতে পারেন না বা পছন্দ করেন না। এজন্য আপনি সারাক্ষন এসি রুমে থাকেন। বাড়ীতে সবসময়ই এসি রুমে ঠান্ডা তাপমাত্রায় থাকেন। বাহিরে গাড়ীতে চললে সেটাতেও এসি ব্যবহার করেন। মানে সারাদিন গরম ও আদ্রতাপুর্ন আবহাওয়ায় আপনি এসি ছাড়া চলতেই পারেন না। এটি আপনার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশে এমন ধরনের সৌখিন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়, অনেক। যদি এরকমে অভ্যস্ত হন তবে আজ থেকে be careful সাবধান হোন।কারন এসি রুমের তাপমাত্রা বাহিরের তাপমাত্রার তুলনায় অনেক কম হয় এবং এসি রুমে যেহেতু বাহিরের বাতাস সহজে প্রবেশ করেনা তাই এখানে শুষ্কতা বিরাজ করে, আদ্রতা থাকেনা বললেই চলে। আর এদুটি অবস্থাই করোনা ভাইরাসের জন্য খুবই উপযুক্ত ও আরামদায়ক। যারা সবসময় এসিতে থাকার অভ্যস্ত তারা তাদের পরিবেশ ও নিজের শরীরটা করোনা ভাইরাসের বসবাসের জন্য অনেক আগেই তৈরী করে বসে আছেন। এই ধরনের মানুষের শরীরে সূর্যালোকতো লাগেই না, এদের শরীর সহজে ঘামে না, এদের শরীরে বেশীরভাগ সময়ই শুষ্কতা বিরাজ করে আর ঠান্ডাতো আছেই। এরা করোনা ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে ও পড়েছে আর ভবিষ্যতে ও পড়বে। এদের জীবনযাত্রা, পরিবেশ ও দেহ করোনা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য অনেক বেশী উপযুক্ত। কারন ঠান্ডা ও শুষ্কতা দুটোই আপনার রুমে ও শরীরে সে সহজেই পেয়ে যাচ্ছে। সবসময় এসি রুমে থাকা মানুষের দেহে ভাইরাস প্রবেশ করার সাথে সাথেই সে তার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ খুবই সহজে পেয়ে যাবে। আপনি টের পাবার আগেই সে শক্তিশালী হবে কারন ঠান্ডা ও শুষ্কতা ২ টোইতো সে পেয়েই গেল। তাহলে লকডাউনে ঘরে বসে ভুল নিয়ম অনুসরন করছেন নাত।

তাই পরামর্শ যারা দীর্ঘদিন ধরে এসি রুমে, গাড়ীতে থাকার অভ্যাস তৈরী করেছেন, আপনারা আপতত ভ্যাকসিন আবিস্কারের আগ পর্যন্ত এসি রুমে থাকার অভ্যাসকে ত্যাগ করুন। গরমে ফ্যান চালিয়ে, দরজা, জানালা সবসময় খোলা রেখে, বাহিরের আলো,বাতাসকে ও সুর্যালোককে ঘরের ভিতর প্রবেশ করান। গায়ে রোদ লাগান। শরীরকে ঘাম হওয়াতে সুযোগ দিন। স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত হোন।ঘরের তাপমাত্রা বাহিরের আবহাওয়ার সাথে এডজাস্ট করে রাখার চেস্টা করুন। করোনার ঔষধ না আসা পর্যন্ত এই অভ্যাস গড়ে তুলুন। লাভ আপনারই হবে। বাংলাদেশে আসলে যারা করোনায় মারা যাচ্ছে, খোঁজ নিয়ে দেখুন এদের লাইফস্ট্যাইল সম্পর্কে তারা কতটা এসি রুমে থাকত।

আর যদি এসি চালাতেই হয় তবে রুমের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর উপরে রাখুন,জানালা খোলা রাখুন। না চালানোই বেটার সবথেকে। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা তাদের শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় বংশবৃদ্ধি করেছে কিন্তু ওদের মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে কম।কারন ওরা সচেতন ও সঠিক দুরত্ব প্রায় সবাই ই বজায় রেখেছে আর আমাদের দেশের আদ্রতা ও গরম আবহাওয়া করোনা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে অনেকটাই বাধা দিয়েছে কিন্তু সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে এটি একজন থেকে অন্যজনের দুরত্ব কম থাকার জন্য ছড়িয়েছে।

Share This Post

আরও পড়ুন