বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

করোনা, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় মেহেন্দিগঞ্জের পান চাষিরা দিশেহারা।

মোঃ নুরনবী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
  • ৫৩৬

ধান-নদী-খালের দেশ বরিশাল।এই জেলার বিচ্ছিন্ন উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলায় পূর্ণ এর প্রকৃতি।এখানে কৃষি ফসলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমানে সুপারি ও নারিকেল উৎপাদন হতো। অনেকটাই নদীতে বিলিন হলেও উপজেলার সকল ইউনিয়নে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ব্যাপক পান চাষ হয়।

করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাজারে পানের দামে ধস নেমেছে। পূর্ণ উৎপাদন মৌসুমে হাটবাজারে বর্তমানে মানুষের অবাধ চলাচল বন্ধ থাকার জন্য ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে বরিশালের পানের হাটবাজারগুলো। ব্যাপক আমদানি হলেও নেই বিক্রি। এজন্য হাটবাজারে ফেলে দিতে দেখা যাচ্ছে পানের গাদি।

চরম হতাশায় ভুগছেন স্থানীয় পানচাষিরা। উল্ল্যেখ্য বরিশালের সব কয়টি উপজেলায় ব্যাপক পানের চাষ হয়। নদী ভাঙ্গার কারনে মেহেন্দিগঞ্জের পান চাষিরা একটু বেশি বিপাকে।

সরেজমিনে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে দেখা যায়, উপজেলার সর্বত্রই পানের চাষ হয়। গুণগত মানে এখানকার পান বেশ ভাল। এজন্য দেশের প্রায় বেশ কিছু জেলায় সরবরাহ হয় মেহেন্দিগঞ্জের মিষ্টি পান। পানচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৫০ শতাংশ পরিবার।

এখানকার অনেক কৃষক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে পানচাষের ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন যাবত চাষিরা পানের দাম ভাল পেলেও বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে পানের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

কয়েক মাস আগে প্রতি ৩২ বিড়া পানের দাম ছিল ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি ৩২ বিড়ার পানের দাম ১ হাজার টাকা থেকে শুধু ৫০০ টাকা। এজন্য পান উৎপাদন ব্যয় দূরের কথা, পান হাটে পরিবহনের খরচ জুটছে না বলে চরম হতাশায় পান চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পান চাষিদের সাথে কথা যায়।
উপজেলার জাংগালিয়ার পানচাষী তৈয়ব আলী মাঝি এবং আলী হোসেন গাজি বলেন। আমাদের নিজস্ব চাষের জমি নাই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পানচাষ করে সংসার চালাই। সংসার ভালোই চলছিলো।

করোনা ভাইসের ফলে হাটবারে পান বিক্রি করতে পারছি না। আবার পান বিক্রি করতে পারলেও পাইকার না থাকার কারণে দাম খুবই কম। বরজ থেকে পান উঠিয়ে বিক্রি করে হাটে যাওয়া-আসার ভাড়া জুটছে না। এজন্য সংসার চালাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

আলাপ হয় চরগোপালপুরের পান চাষি খোরশেদ বয়াতি। মেহেন্দিগঞ্জের অম্বিকা পুরের পানচাষি রফিক সিকদার। আলিমাবাদের পানচাষি কামাল সিকদার সহ অনেকের সথে।

তাহারা বলেন, পানের একবোরেই দাম নেই। দুইদিন ধরে পান ভেঙে গুছিয়ে হাটে বিক্রি করে একশো টাকাও জুটছে না। ফেলে দিতে হচ্ছে, কেউ এমনিতেও নিচ্ছে না।

করোনা ভাইরাসের জন্য হাটবাজারে দাম কম, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় মেহেন্দিগঞ্জের পান চাষিরা দিশেহারা। তাহারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছে।

Share This Post

আরও পড়ুন