মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

ঈদে কঠোর নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট| মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০
  • ২৬৭

একদিকে করোনা তার ওপর বন্যা। এই দুইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সারাদেশে যে কোনো স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা। যদিও পুলিশ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় আগেভাগেই সতর্ক থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে। এরপরও করোনা শুরুর পর প্রথম কোরবানির ঈদে কঠোর নিরাপত্তার থাকবে পুলিশ।

পুলিশ সদর দফতর, ডিএমপি, র‌্যাব এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে কঠোর নিরাপত্তার বিষয়ে জানা গেছে।

গত ২৩ জুলাই পুলিশ সদর দফতর থেকে এআইজি তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটা চিঠিতে সারাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। চিঠিতে নব্য জেএমবির সদস্যরা সারাদেশে যেকোনো স্থানে জঙ্গি হামলা চালাতে পারে মর্মে উল্লেখ করা হয়।

মূলত ওই চিঠির নির্দেশনা পাওয়ার পরই সারাদেশে র‌্যাব, পুলিশসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। কঠোর অবস্থানে থাকার প্রস্তুতি নেয় পুলিশ। এরইমধ্যে র‌্যাব ও পুলিশ সারাদেশে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে। চালানো হচ্ছে অভিযান এবং বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আসন্ন ঈদুল আজহায় ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি হামলার সম্ভাব্য হুমকি থাকায় পুলিশ বিশেষ করে গির্জা, প্যাগোডা, আহমদিয়া মিশন, মাজারভিত্তিক মসজিদ, পীরের দরবার শরীফ ও বিদেশী দূতাবাস কেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার বেশি আকারে করা হয়েছে। এসব স্থাপনার আশেপাশে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

গত কয়েক রাতে (২৫ থেকে ২৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশান এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। রাত ৮টার মধ্যেই ওষুধের দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। এ চিত্র দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও দেখা গেছে।

কাজ করছে পুলিশের সাইবার ইউনিটও। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। অন্যদিকে সিটিটিসির সাইবার দল জঙ্গি চ্যানেলগুলোতে নজরদারি করছেন। একইসঙ্গে কোরবানির পশুর হাট, ঈদযাত্রা, লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনেও বাড়তি নিরাপত্তায় কাজ করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ মুহূর্তে পুলিশ সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। তারা করোনা মোকাবিলায় কাজ করছে একইসঙ্গে বন্যা মোকাবিলাতেও। তারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কাজ করছে। এমনিতেই ঈদের সময় বাড়তি নিরাপত্তা দিয়ে থাকে পুলিশ। সবরকম ঝুঁকি মাথায় নিয়েই পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশ জনগণের কাছে গিয়ে মানবিক পুলিশে পরিণত হওয়ার জন্য আরও বেশি কাজ করছে।’

অন্যদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা এই মুহূর্তে জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেই। এরপরও নিয়মিত জঙ্গি চ্যানেলগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। থ্রেট আসতেই পারে তবে সেটি কোনো পর্যায়ের তার দেখতে হবে। পুলিশ সবসময় সতর্ক থাকে। তারই অংশ হিসেবে এবারও পুলিশ সতর্কবস্থায় রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ সদস্যরা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবিলা করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। কাজেই কোনো হামলার চেষ্টা করা হলেও তা সহজে প্রতিহত করা সম্ভব হবে।’

আর ঈদে রাজধানীতে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃঞ্চপদ রায় বলেন, ‘ঈদে রাজধানীতে পুলিশ এবার কড়া পাহারা দেবে। সবদিক বিবেচনায় পুলিশ এ ব্যবস্থা নিয়েছে। কাজেই কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।’

জানতে চাইলে র‌্যাব সদর দফতরের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘শুধু রাজধানী ঢাকা নয় সারাদেশে র‌্যাব সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। তারা নিরাপত্তায় সব সময় কাজ করছে। পেট্টোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যারিকেড বসানো, তল্লাশি এমনকি বিভিন্ন ধরনের অভিযানও চালানো হচ্ছে।’

Share This Post

আরও পড়ুন