সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

আমরা যেন ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি না করি

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার
  • প্রকাশ : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ২৪৮

 

এটা খুবই উদ্গেজনক যে, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থামছে না। বাড়ছে মৃত্যুরমিছিল ও শনাক্তের সংখ্যাও। ছোঁয়াচে এ রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়। মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, উপসর্গ দেখা দিয়ে হোমকোয়ারেন্টিনে থাকার মধ্য দিয়ে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বাঁচতে হলে এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপরই জোর দিতে হবে। জেনেবুঝে যেন আমরা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহতার দিকে না নিয়ে যাই।

সহযোগী একটি দৈনিকের এ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়- দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ সত্ত্বেও করোনা প্রতিরোধে নতুন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তো নেওয়া হয়ইনি বরং আগে নেওয়া কৌশলগুলো একে একে সবই যেন ভেস্তে যাচ্ছে। পরীক্ষা, শনাক্ত, আক্রান্তের উৎস বের করা এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা—এই চার মূল কৌশলের মধ্যে পরীক্ষার হার এখনো সীমিত রয়ে গেছে, আবার যতটুকু পরীক্ষা হচ্ছে তার ভিত্তিতে যারা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই থেকে যাচ্ছে আইসোলেশনের বাইরে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধের আরেক অপরিহার্য বিষয় হিসেবে আক্রান্ত হওয়ার উৎস খুঁজে বের করায় রয়ে গেছে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। হাসপাতালগুলোর অবস্থা মাঝখানে কিছুটা উন্নত হলেও হাসপাতালমুখী পজিটিভ রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কমই থেকে যাচ্ছে। জটিলতা নিয়েও অনেকেই থেকে যাচ্ছে বাসাবাড়িতে। এ অবস্থায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীন। অথচ একজনের উদাসনীতা অন্যের জন্যও বিপদ ডেকে আনতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট অফিসে আগত সেবা গ্রহীতারা ছাড়াও সব জায়গায় মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা করে পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আগত সেবা গ্রহীতাদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। শপিংমল, বিপণি-বিতান ও দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট ব্যবস্থাপনা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

এছাড়া হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। মাস্ক পরিধান ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করবে না। স্থানীয় প্রশাসন, ও হাট-বাজার কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবে। গণপরিবহনের (সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশপথ) চালক, চালকের সহকারী ও যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনে আরোহণের পূর্বে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মালিক সমিতি বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকরা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। হকার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ সব পথচারীকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করবে। হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তি এবং জনসমাবেশ চলাকালীন আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করবেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতিকে নিশ্চিত করতে হবে।

সব প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠানে আগত ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান নিশ্চিত করবে। বাড়িতে করোনাভাইরাসের উপসর্গসহ কোনো রোগী থাকলে পরিবারের সুস্থ সদস্যদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

কথায় আছে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।’ করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কথাটি আরও বেশি প্রযোজ্য। তাই বাঁচতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। কেবল আইন মানার জন্য নয়, নিজের জীবনের ঝুঁকি এড়ানোর জন্যও।

লেখকঃ বিশেষ প্রতিবেদক এইচ টিভি ও শ্যামল বাংলা ডট নেট _|
সাবেক কাউন্সিলরঃ বিএফইউজে-বাংলাদেশ -| সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও মানবাধিকার সংগঠক _|

Share This Post

আরও পড়ুন