সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

অনৈতিক কর্মকান্ডের আখড়ায় পরিনত হচ্ছে হালদা ভেরীবাধ,এসব রুখবে কে?

হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২০
  • ১২৯৪

সারাদেশে যখন করোনা ভাইরাসের কারনে জন সমাগম নিষিদ্ধ,সরকার মুখে মাস্ক পড়া বাধ্যতামুলক করেছে ,বড় পর্যটন কেন্দ্রগুলি যেখানে বন্ধ সেখানে প্রতিদিন হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শার হালদা ভেরীবাধে বিশেষ করে রামদাশ হাটের পাশে হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করে হালদা ভেরী বাধে।সামাজিক দুরত্বের বালাই নাই,মুখে নেই মাস্ক,মনে হবে যেন করোনা বিদায় নিয়েছে।এখানে এখন করোনার প্রজননের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়েছে।তার চেয়ে ভয়ানক হচ্ছে দুপুর বেলা আর সন্ধ্যা বেলা যখন ভেরী বাধে মানুষের সমাগম কম থাকে তখনি স্কুল কলেজের কোচিং করার নামে উঠতি বয়সি কিশোরেরা কখনো কার মোটর বাইকে করে এসে রাতঅব্দী আড্ডা দেয়।মাজে মধ্য ঐসব কিশোরেরা বিভিন্ন মেয়েদের নিয়ে আসে।সন্ধ্যা গড়াতেই চলে অসামাজিক কার্যকলাপ।পাশ্ববর্তী স্থানীয়রা ঐসব কিশোরদের অপকর্মে বাধা প্রদান করলে তারা হুমকি প্রদর্শন করে। দিন দিন এই হালদা নদীর ভেরীবাধ অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিনত হচ্ছে।প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর ভেরীবাধে ছিনতাই আর ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে ।মফস্বল ইউনিয়ন বলে এসব অপরাধের ঘটনা প্রকাশিত হয়না।প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে শত শত উঠতি তরুন কাধে স্কুল বা কলেজ ব্যাগ নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভেরীবাধে আসে।দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তারা ভেরীবাধে অবস্থান করে। আগত তরুনেরা প্রায় সময় মাদকদ্রব্য, ইয়াবা ও চোরাই মটরসাইকেল কেনা বেচা করে।জনশ্রুতি আছে প্রতিদিনই এই ভেড়ীবাধে লাক লাখ টাকার ইয়াবা বেচাকেনা হয়।এমন কোন অপরাধ নেই যা প্রতিদিনই ঘটছে না।ভেরীবাধে ঘুরতে আসা অনেক তরুনী,মহিলা প্রায় ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসব রোধ করতে কিছুদিন ইউপি চৌকিদারদের দিয়ে টহলের ব্যাবস্থা করলেও বর্তমানে সেই চৌকিদারের টহলও নেই।স্থানীয় এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় হাটহাজারী মডেল থানায় ভেরীবাধে টহলের মৌখিকভাবে জানালেও প্রশাসন কোন প্রকার ব্যাবস্থা নিতে ব্যার্থ হয়।এব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মাসুদ আলম বলেন,আমরা এব্যাপারে আগে জানিনি ইনশাআল্লাহ এবার এই ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নিবো।আগামী ৭তারিখ থেকে আমরা হাটহাজারীর প্রতিটা ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাদকের বিরোদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।কোন মাদক ব্যাবসায়ি বা তাদের মদতদাতা ছাড় পাবেনা।আমরা চাই এলাকার মানুষ পুলিশকে অপরাধ ও অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য দিক আমরা তাদের পরিচয় গোপন রাখবো”।প্রতিদিনই এই ভেরীবাধে ছিনতাই,ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা গঠলেও তা দেখার মতো কেউ নেই।স্থানীয়রা এসব কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে আসলে ঐসব কিশোরদের দলবল হুমকি প্রদান করে।দিন দিন ভেরীবাধ ভিত্তিক কিশোর গ্রুপের অনৈতিক কর্মকান্ডে এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে অজানা আতংকে দিনপার করছে প্রতিটা অভিবাবক।
এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন মাসুদকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিব করেন নি।
স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ নেতা লোকমান হোসেন বলেন,সরকার ভেড়ীবাধ নির্মান করেছে হালদার জোয়ারের পানি থেকে আমাদের রক্ষা করতে,এর সুন্দর্য অবলোকন করতে প্রতিদিনই দুরদুরান্ত থেকে লোকজন আসে কিন্তু ইদানিং এই ভেড়ীবাধে বিভিন্ন অপকর্ম হচ্ছে আমরা প্রায় শুনে থাকি তাই উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি ভেড়ীবাধের সুন্দর্য রক্ষা ও পাশ্ববর্তী সমাজকে রক্ষা করতে যেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করে।
এসব অনৈতিক কর্মকান্ড দূর করতে প্রশাসন যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Share This Post

আরও পড়ুন